![]() |
উত্তরের হাওয়া, ১৮ মেঃ ময়নাগুড়ি ব্লকের চূড়াভান্ডার এলাকায় জাতীয় সড়কের ধারে যাত্রী প্রতীক্ষালয়ের ঠিক পাশেই গজিয়ে উঠছে একটি বার ও রেস্টুরেন্ট। সেই খবরে ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা রবিবার পথ অবরোধ ও অবস্থান-বিক্ষোভে সামিল হন। অভিযোগ, স্থানীয় এক ব্যক্তি রীতিমতো লাইসেন্সের জন্য আবেদন করে ঘর নির্মাণের কাজ শুরু করেছেন, অথচ এলাকাবাসীদের অন্ধকারে রেখেই এগোচ্ছে সেই কাজ।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দোকান সম্প্রসারণের নাম করে তাঁদের কাছ থেকে স্বাক্ষর সংগ্রহ করা হয়েছে, যা পরে বার ও রেস্টুরেন্টের লাইসেন্সের জন্য ব্যবহৃত হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়েছে।
এদিন বহু মহিলা হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে প্রতীক্ষালয়ে বসে অবস্থান-বিক্ষোভ করেন। তাঁদের দাবি, এই গ্রামে বেশিরভাগ মানুষ দিনমজুর। এখানে যদি বার হয়, তাহলে সমাজে অশান্তি ছড়াবে, শিশু ও কিশোররা বিপথে যাবে।
স্থানীয় মহিলা সুমিত্রা মন্ডল বলেন, "এখানে যদি বার হয়, তাহলে বাসস্ট্যান্ডে মা-বোনরা বাসে উঠতে পারবেন না। বাচ্চারা যদি জিজ্ঞাসা করে — মা, এখানে কী হচ্ছে? আমরা তাদের কী উত্তর দেব?"
বাসিন্দা নিরঞ্জন মন্ডল জানান, তাঁর বাড়ির পাশেই এই ঘর তৈরি হচ্ছে। তিনি বলেন, "এটা হতে দেওয়া যাবে না। আমাদের বাচ্চাদের ভবিষ্যৎ নষ্ট হয়ে যাবে।" একইসঙ্গে আরেক বাসিন্দা ভূমিকা রায় বলেন, "বার ও রেস্টুরেন্ট যদি ঘরের পাশেই হয়, তাহলে আমাদের ভবিষ্যৎ তো শেষ, বাচ্চাদের কী হবে?"
স্থানীয় মহিলাদের আশঙ্কা, খুব কম দামে সহজলভ্য মদ শিশুদের জীবন নষ্ট করে দেবে। তাঁদের বক্তব্য, "ছোটো বাচ্চাদের নিয়ে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়বে যদি এই বার চালু হয়।"
ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গ্রামবাসীরা জলপাইগুড়ি জেলার জেলাশাসক, ময়নাগুড়ি ব্লক প্রশাসন, পঞ্চায়েত সমিতি এবং চূড়াভান্ডার গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানের কাছে স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন। দাবি উঠেছে অবিলম্বে এই নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেওয়ার।
এখন দেখার, প্রশাসন গ্রামবাসীদের দাবি মেনে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

No comments:
Post a Comment