উত্তরের হওয়া, ২২ ফেব্রুয়ারি: নথি যাচাইয়ে বিচারকদের সরাসরি ভূমিকা, অসংগতি রুখতে আসছে বিশেষ ডিজিটাল পোর্টাল।
ভোটার তালিকায় নাম তোলা বা তথ্য সংশোধন নিয়ে কোনও কারচুপি হচ্ছে কি না—এই প্রশ্ন ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক টানাপড়েন চলছে। সেই জট কাটাতেই এবার সক্রিয় হচ্ছে বিচার বিভাগ। সুপ্রিম কোর্ট-এর নির্দেশে শনিবার কলকাতা হাইকোর্ট-এ অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের নির্যাস হিসেবে সামনে এল এক অভিনব পদ্ধতি।
কমিশন সূত্রে জানা গেছে, এবার ভোটারদের জমা দেওয়া নথি এবং সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের পর্যবেক্ষণ খতিয়ে দেখে চূড়ান্ত সিলমোহর দেবেন বিচারকেরাই। এই গোটা প্রক্রিয়া পরিচালনার জন্য তৈরি করা হচ্ছে একটি স্বতন্ত্র ডিজিটাল পোর্টাল।
সিইও দফতর সূত্রে খবর, বিচারকদের নামের তালিকা পাওয়ার পর প্রত্যেকের জন্য আলাদা ‘লগ-ইন আইডি’ তৈরি হবে। নিরাপত্তার জন্য ওটিপি ভিত্তিক প্রবেশের ব্যবস্থাও থাকবে। পোর্টালে লগ-ইন করে সংশ্লিষ্ট বিচারক নিজের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিধানসভা এলাকা বেছে নেবেন। এরপর বুথভিত্তিক ‘পার্ট নম্বর’ নির্বাচন করলেই নিষ্পত্তির অপেক্ষায় থাকা ভোটারদের তালিকা দেখা যাবে।
স্বচ্ছতা বজায় রাখতে প্রতিটি নামের পাশে থাকবে দুটি বিকল্প। প্রথমটিতে আবেদনকারীর ‘এনুমারেশন ফর্ম’ ও শুনানিতে জমা দেওয়া নথির বিস্তারিত দেখা যাবে। দ্বিতীয় বিকল্পে সংশ্লিষ্ট ইআরও, এইআরও, মাইক্রো অবজার্ভার ও বিএলও-দের মতামত ও স্ক্রুটিনির বিবরণ থাকবে।
সব তথ্য যাচাইয়ের পর বিচারক ‘রিজেক্ট’ বা ‘অ্যাকসেপ্ট’—দুটি পথের একটিতে সিদ্ধান্ত জানাবেন। তবে শুধু বোতাম টেপাই নয়, ‘কমেন্ট’ বক্সে লিখতে হবে তাঁর সুনির্দিষ্ট আইনি ও যৌক্তিক পর্যবেক্ষণও।
প্রশাসনিক মহলের মতে, বিচারকদের এই সরাসরি নজরদারি ভোটার তালিকা সংক্রান্ত বিতর্ক অনেকটাই কমাবে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।
No comments:
Post a Comment