Monday, February 23, 2026

বাড়ছে ভাইরাল ডায়রিয়া, রোটাভাইরাসে সতর্কতা ও সচেতনতা এখনই জরুরি।

বাড়ছে ভাইরাল ডায়রিয়া, রোটাভাইরাসে সতর্কতা ও সচেতনতা এখনই জরুরি।
উত্তরের হাওয়া, ২৩ ফেব্রুয়ারি: রাজ্যজুড়ে গত কয়েক সপ্তাহে ভাইরাল ডায়রিয়ার সংক্রমণ দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, এই ডায়রিয়ার বড় অংশই রোটাভাইরাসজনিত। সব বয়সের মানুষ আক্রান্ত হলেও শিশুদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। কারণ তাদের শরীরে তরলের মজুত কম থাকায় খুব দ্রুত ডিহাইড্রেশন বা পানিশূন্যতা দেখা দিতে পারে। সময়মতো চিকিৎসা না হলে পরিস্থিতি গুরুতর আকার নিতে পারে।
ভাইরাল ডায়রিয়ার প্রধান লক্ষণ হলো ঘন ঘন জলীয় পায়খানা। এর সঙ্গে বমি, জ্বর, পেটব্যথা, শরীরব্যথা এবং তীব্র দুর্বলতা দেখা যায়। বারবার পায়খানা ও বমির ফলে শরীর থেকে জল ও প্রয়োজনীয় ইলেক্ট্রোলাইট বেরিয়ে যায়, যা ডিহাইড্রেশনের ঝুঁকি বাড়ায়। শিশুদের ক্ষেত্রে চোখ বসে যাওয়া, মুখ শুকিয়ে যাওয়া, প্রস্রাব কমে যাওয়া বা অস্বাভাবিক ঘুমঘুম ভাব—এসব লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন।
রোটাভাইরাস একটি আরএনএ ভাইরাস, তাই অ্যান্টিবায়োটিক এ ক্ষেত্রে কার্যকর নয়। চিকিৎসার মূল ভরসা হলো শরীরে তরল ও লবণের ঘাটতি পূরণ করা। নিয়মিত ওরাল রিহাইড্রেশন সলিউশন (ORS) খাওয়ানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শে স্যালাইন দেওয়া হয়। পাশাপাশি হালকা, সহজপাচ্য খাবার যেমন ভাত, স্যুপ, ডাল, কলা ইত্যাদি দেওয়া যেতে পারে।
সংক্রমণ প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি। সাবান দিয়ে নিয়মিত হাত ধোয়া, বিশুদ্ধ ও ফুটানো জল পান করা, খাবার ঢেকে রাখা এবং সঠিক স্যানিটেশন বজায় রাখা সংক্রমণ কমাতে বড় ভূমিকা রাখে।
অভিভাবকদের প্রতি বিশেষ অনুরোধ, ডায়রিয়া বা বমির লক্ষণ দেখলেই ঘরোয়া চিকিৎসায় সময় নষ্ট না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। সময়মতো সঠিক চিকিৎসা ও হাইড্রেশনের মাধ্যমে অধিকাংশ রোগী সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠেন।

No comments:

Post a Comment

ডে শিফটের প্রথম দিনেই গরমে অসুস্থ পড়ুয়া। ফের মর্নিং শিফটের দাবিতে সরব ছাত্রছাত্রীরা।

ডে শিফটের প্রথম দিনেই গরমে অসুস্থ পড়ুয়া। ফের মর্নিং শিফটের দাবিতে সরব ছাত্রছাত্রীরা।  উত্তরের হাওয়া, ১ জুলাই: প্রায় এক মাস ম...