২০২৯ সালেই কার্যকর হতে পারে ‘এক দেশ-এক ভোট’
উত্তরের হাওয়া, ১২
জুলাই:
‘এক দেশ-এক ভোট’
(One Nation, One Election) ব্যবস্থা
২০২৯ সালের মধ্যেই কার্যকর করার লক্ষ্য নিয়ে
এগোচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকার। গোয়ায় অনুষ্ঠিত দু’দিনের বৈঠক
শেষে এমনই ইঙ্গিত দিয়েছেন
এই বিষয়ে গঠিত যৌথ সংসদীয়
কমিটির (JPC) চেয়ারম্যান পি. পি. চৌধুরী।
তাঁর দাবি, অধিকাংশ জনপ্রতিনিধি দ্রুত এই ব্যবস্থা চালুর
পক্ষেই মত দিয়েছেন।
বর্তমানে ‘এক দেশ-এক
ভোট’ সংক্রান্ত বিলটি যৌথ সংসদীয় কমিটির
পর্যালোচনায় রয়েছে। কমিটি প্রাক্তন নির্বাচন কমিশনার, প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি এবং বিভিন্ন সাংবিধানিক
বিশেষজ্ঞের মতামত সংগ্রহ করছে। চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, আসন্ন বাদল অধিবেশনের আগেই
কমিটির রিপোর্ট জমা দেওয়ার চেষ্টা
চলছে। রিপোর্ট প্রস্তুত হলে সংসদে বিলটি
উত্থাপন করা হতে পারে।
জেপিসি চেয়ারম্যানের দাবি, এই ব্যবস্থা চালু
হলে নির্বাচনী খাতে প্রায় ৭
লক্ষ কোটি টাকা পর্যন্ত
সরকারি ব্যয় সাশ্রয় হতে
পারে। সেই অর্থ উন্নয়নমূলক
প্রকল্প ও পরিকাঠামো গঠনে
ব্যবহার করা সম্ভব হবে
বলেও তাঁর মত।
প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রথম পর্যায়ে লোকসভা ও সমস্ত রাজ্যের
বিধানসভা নির্বাচন একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ১০০
দিনের মধ্যে পঞ্চায়েত ও পুরসভা নির্বাচন
সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য কিছু রাজ্যের
বিধানসভার মেয়াদ একবারের জন্য কমানো বা
বাড়ানো হতে পারে। ২০৩০
থেকে ২০৩৩ সালের মধ্যে
যেসব রাজ্যে নির্বাচন হওয়ার কথা, সেখানে এক,
দুই বা তিন বছরের
স্বল্পমেয়াদি বিধানসভা গঠনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে।
সেই হিসেবে পশ্চিমবঙ্গে ২০৩১ সালের বিধানসভা
নির্বাচনের পর গঠিত সরকারের
মেয়াদও পূর্ণ পাঁচ বছরের পরিবর্তে
কম হতে পারে বলে
ইঙ্গিত মিলেছে।
তবে বিষয়টি এখনও প্রস্তাব ও
আইন প্রণয়নের পর্যায়ে রয়েছে। সংসদের অনুমোদন এবং প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক
সংশোধন সম্পন্ন হওয়ার পরই ‘এক দেশ-এক ভোট’ ব্যবস্থা
কার্যকর হবে কি না,
তা চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হবে।

No comments:
Post a Comment